এই প্রথম আয়াতের অক্ষর গণনা করে (ইংরেজিতে শুধু বড় হাতের অক্ষর) আমরা দেখতে পাই যে, এখানে উনিশটি অক্ষর রয়েছে। এবং এতে যে শব্দগুলো রয়েছে সেগুলো প্রত্যেকটি উনিশের গুণিতক। যেমন প্রথম অক্ষর, ISM উনিশ বার; দ্বিতীয় শব্দ, ALLaH ২৬৯৮ বার, যা ১৯-এর গুণিতক (১৯ বার ১৪২); তৃতীয় শব্দ, AL-RaHMaN আছে ৫৭ বার, (১৯ বার ৩); সর্বশেষ শব্দ, AL RaHIM আছে ১১৪ বার (১৯ বার ৬)।
ড. খালিফা দাবি করেছেন, কোরআনের এই অলৌকিকত্বে মানুষের কোনো হাত নেই। অথচ, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বাক্যে যে ১৯টি বর্ণ আছে, এই মৌলিক দাবিতেই মানুষের হাত আছে। আরবি বাক্যটিকে ইংরেজিতে প্রতিবর্ণীকরণ করার সময় আমরা যদি স্বরবর্ণ বাদ দেই, তাহলে বাক্যটি এরকম দাঁড়ায় : BSM ALLH ALRHMN ALRHIM, উল্লেখ্য, আরবিতে স্বরবর্ণগুলো লেখা হয় না, পড়ার সময় ধরে নেওয়া হয়। এই প্রতিবর্ণীকৃত বাক্যে বর্ণের সংখ্যা ১৯। কিন্তু, আরবিতে ‘তাশদিদ’ বলে একটি প্রতীক আছে, কোনো বর্ণের ওপর সে প্রতীক থাকলে তা দুই বার উচ্চারণ করতে হয়। ALLAH শব্দের দ্বিতীয় L-এর ওপর একটি তাশদিদ আছে। সেক্ষেত্রে এই লাম দুই বার উচ্চারণ করে এভাবে লেখা যেত (বা এভাবে লেখা উচিত) : ALLLAH; আর বর্ণ সংখ্যা হয়ে যেত ২০টি।
তাশদিদ যুক্ত বর্ণ দুই বার ধরা হয়েছে নাকি এক বার ধরা হয়েছে, সে বিষয়টি ড. খালিফা কোথাও স্পষ্ট করে বলেন নি। এছাড়া যে স্বরবর্ণগুলো লেখা হয় না, কিন্তু পড়ার সময় ধরা হয় সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করা বা। বাদ দেওয়ার ব্যাপারটাও তিনি স্পষ্ট করেন নি।
পরবর্তী সমস্যা BISM শব্দ নিয়ে। এটি প্রকৃতপক্ষে দুটি শব্দের সমন্বয় : Bi (এক্ষেত্রে এই শব্দের অর্থ ‘মধ্যে) এবং ISM (অর্থ ‘নাম)।
ড. খালিফা সবসময় আরবি বর্ণক্রম ব্যবহারের কথা বলেছেন। এই আরবি বর্ণক্রম ব্যবহার করে ISM শব্দটির অনুসন্ধান করা যেতে পারে। আবদুল বাকি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত কোরআনের একটি নির্ঘণ্ট ঘেঁটে এই আশ্চর্যজনক তথ্য পাওয়া গেছে।
BiSM শব্দটি কোরআনের প্রথম আয়াতেই আছে। এই শব্দটি কোরআনের মাত্র তিনটি স্থানে উল্লেখিত হয়েছে : ১ : ১১, ১১ : ৪১ এবং ২৭ : ৩০] কিন্তু বিচ্ছিন্নভাবে কেবল ISM শব্দটি কোরআনে মোট ১৯ বার উল্লেখিত হয়েছে।
কিন্তু তৃতীয় আরেকটি তালিকা আছে। ISMuHu শব্দের অর্থ ‘তার নাম। এটি আরবিতে একটি অখণ্ড শব্দ হিসেবে লেখা হয়। কোরআনে এটি ৫ বার এসেছে।
সবগুলো ফল যোগ করলে পাওয়া যায় : ৩ + ১৯ + ৫ = ২৭, স্পষ্টতই এখানে ১৯ এর সাংখ্যিক তাৎপর্য আর থাকছে না।
আমাদের সামনে আরও অনেকগুলো অনুমানের ব্যাপার আছে, যেগুলো সম্বন্ধে ড. খালিফা কোনো ব্যাখ্যা দেন নি। কোন বিবেচনায় তিনি তিনবার উল্লেখিত BiSM শব্দটি গণনা থেকে বাদ দিয়েছেন? যে শব্দ নিয়ে গবেষণা করছিলেন সেই শব্দটিই বাদ দেওয়ার পিছনে কোনো যুক্তিই দেখান নি। আর কেবল বিচ্ছিন্ন ISM শব্দ গণনার ব্যাপারেই বা তিনি কোন নীতি অনুসরণ করেছেন? সর্বনামযুক্ত বিশেষ্য ISMuHu-কে কেন বাদ দিলেন?
তাহলে কি এই তিন ধরনের শব্দের অর্থের মধ্যে কোনো ব্যাখ্যা লুকিয়ে আছে? হয়তবা, যেসব স্থানে এই শব্দগুলোর মাধ্যমে কেবল আল্লাহর নাম বোঝানো হয়েছে সেগুলোকেই ড. খালিফা গণনা করেছেন। কিন্তু নিম্নোক্ত দুটি আয়াতের দিকে লক্ষ্য করলে এই ধারণাও ভুল বলে প্রমাণিত হয়। সুরা মায়িদার ৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে–
…but pronounce God’s name (ISM ALLaH) over it…
এবং সুরা বাকারার ১১৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে–
And who is more unjust than he who forbids in places for the worship of God, that His name (ISMuHu) should be pronounced?
মূল আরবি বা ইংরেজি অনুবাদ কোনোটিতেই এই শব্দগুলোর মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই, একটি ছাড়া : এখানে ‘God’s name সরাসরি বিধেয় এবং His name উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আরবি বর্ণক্রমে এই শব্দ দুটির লেখ্য রূপের ভিত্তিতেই কেবল দুটিকে ভিন্নস্থানে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
আরও কথা আছে, কিসের ভিত্তিতেই বা ড. খালিফা এই শব্দগুলোর বহুবচন রূপগুলো বাদ দিলেন? এগুলোর বহুবচন কোরআনে আরও ১২ বার এসেছে। বিশেষত সুরা আ’রাফের ১৪০ নম্বর আয়াতের কথা উল্লেখ করা MT, ‘The most beautiful names belong to God…’
বহুবচন বাদ দেওয়ার কেবল একটি কারণই থাকতে পারে। সেটি হচ্ছে, বহুবচনগুলো গণনা করলে মোট সংখ্যাটি ১৯ না হয়ে ৩৯ হয়ে যায়।
উপর ALLAH শব্দটির ব্যবহারের ধরনের ব্যাপারেও সন্দেহ আছে। এই শব্দের সাথে যখন Li উপসর্গ যুক্ত হয় তখন দুইয়ে মিলে LiLaH বা LiLLah শব্দের জন্ম দেয়। এখানে উপসর্গটির অর্থ প্রতি। এই লিল্লাহ শব্দেও একটি লাম-এর উপর তাশদিদ আছে। (উদাহরণ হিসেবে ২ : ২২ আয়াতটি দেখা যেতে পারে) ব্যাকরণ অনুসারে এই প্র উপসর্গযুক্ত শব্দটি ঠিক BiSM-এর মতো করেই ব্যবহৃত হয়। পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বলতে পারি ড. খালিফা এবার প্র উপসর্গযুক্ত শব্দগুলো বাদ দিয়ে কেবল মূল শব্দটিই গণনা করবেন। কিন্তু তিনি তা করেন নি। এবার ঠিকই LiLaH গুলো গণনা করেছেন, কারণ এগুলো গণনা না করলে মোট সংখ্যাটা ২৬৯৮ হতো না এবং তা ১৯ দিয়েও বিভাজ্য হতো না। এধরনের যাদৃচ্ছিক ব্যবহারের পেছনে কি আদৌ কোনো যুক্তি আছে?
