কতক্ষণ ঘুমিয়েছে?
সমস্ত রাত, পরের দিন দুপুর পর্যন্ত।
ডাক্তার চিন্তিত মুখে ভ্রু কুঁচকাল।
কি হয়েছে ওর, ডাক্তার?
আমি প্রথমে ভেবেছিলাম বিছানা কপার ব্যাপারটি হচ্ছে ক্রনিক কস্ট্রাকশনের জন্যে। শরীরের পেশী যদি কিছুক্ষণ পর পর শক্ত ও নরম হতে থাকে তাহলে এরকম হয়। মস্তিষ্কে যদি কোন প্রদাহ হয় তখনো এটা হতে পারে।
তাহলে আপনি বলছেন ওই সময় রেগানের মাংসপেশীতে …
ডাক্তার গম্ভীর হয়ে বললেন, না। পরীক্ষা করে তেমন কিছু পাওয়া গেল না। আচ্ছা, রেগান কি কখনো মাথায় আঘাত পেয়েছিল?
না। আমার তো মনে পড়ে না।
অল্প বয়সে কোন বড় অসুখ-বিসুখ হয়েছিল?
বাচ্চাদের যে-সব অসুখ হয় ওই সব হয়েছিল– মামস, চিকেন পক্স এই সব।
ঘুমের মধ্যে হাঁটার ঘটনা কখনো লক্ষ্য করেছেন?
না, কখনোই না। ওই পার্টির দিনই প্রথম দেখলাম।
মিসেস ম্যাকনীল, আপনি কি করে বুঝলেন যে পার্টির দিন ও ঘুমের মধ্যে হাঁটছিল?
কারণ, পরদিন আর ওর কিছু মনে ছিল না। ও যে পার্টিতে গিয়ে একা একা হাজির হয়েছিল এই কথাটাই মনে করতে পারল না।
এরকম আরো কিছু লক্ষ্য করেছেন?
ক্রিস জবাব দিতে কিছুটা সময় নিল। যেন বলার ইচ্ছা নেই, তবু বাধ্য হয়ে বলতে হচ্ছে। ওর বাবা ওকে টেলিফোন করেছিল। সেটা ওর একেবারেই মনে নেই।
কবে হয়েছে ঘটনাটা?
ওর জন্মদিনে।
কি কথাবার্তা হয়েছে?
ক্রিস অত্যন্ত অস্বস্তির সঙ্গে বলল, রেগান ওর বাবাকে অত্যন্ত কুৎসিত একটা কথা বলে টেলিফোন নামিয়ে রেখেছে।
কি কথা?
সেটা আমি বলতে চাই না। প্লীজ, ডাক্তার।
ডাক্তার ক্লীন এবার চিন্তিত মুখে বললেন, তাহলে ও যে বলছে কারা যেন ওর ঘরের আসবাবপত্র নাড়াচাড়া করে, তা সত্যি?
কি বলছেন, ডাক্তার?
আসবাবপত্র ও নিজেই রাত্রিবেলা নাড়ায়, কিন্তু পরে আর তা মনে থাকে না। মেডিকেল সায়ান্সে একে বলে অটোমেটিজম। ঘোর-পাওয়া একটা অবস্থা। রোগী বুঝতে পারে না সে কি করছে, পরে তার মনেও থাকে না।
আমার মনে হয়, আপনার কথাটা ঠিক নয়। রেগানের ঘরে কাঠের যে আলমারিটা আছে তার ওজন কম হলেও এক টন। ওটা ও নাড়াবে কি করে?
ঘোর পাওয়া রোগীর মধ্যে প্রচণ্ড শারীরিক ক্ষমতা দেখা যায়। আর কোন অস্বাভাবিক ঘটনা লক্ষ্য করেছেন?
গতকাল সকালে রেগান ওর ঘরে বসে ক্যাপ্টেন হাউডির সংগে কথা বলছিল।
কি নাম বললেন?
ক্যাপ্টেন হাউডি। প্ল্যানচেটে যে প্রেতাত্মাটি আসে বলে ওর ধারণা।
ডাঃ ক্লীন মাথা নাড়লেন। তার ভ্রু কুঁচকে গেল।
ওকি এখন কোন গন্ধ পায়?
ও তো সারাক্ষণই ঘরে একটা খারাপ গন্ধ পায়।
যেন কোন কিছু পুড়ছে। পোড়া গন্ধ?
হ্যাঁ, হ্যাঁ, ঠিক তাই। কিন্তু আপনি কি করে জানলেন?
মিসেস ম্যাকনীল, এইসব লক্ষণ এক ধরনের অসুখের। একে বলে মস্তিষ্কের কেমিকোইলেকট্রিক্যাল অ্যাকটিভিটির বিশৃংখলা। মস্তিষ্কের ভেতরকার টেম্পোরাল লোবের প্রদাহ থেকে এটা হয়। আমি আপনার মেয়ের ই ই জি নেবো।
কি নিবেন?
ইলেকট্রনএনসিফ্যালোগ্রাফ। মস্তিষ্ক তরঙ্গের প্যাটার্ন পরীক্ষা। পরীক্ষাটা কি এখনই করতে চান?
হ্যাঁ, ঘুমের ওষুধ দিয়ে পরীক্ষাটা চালাতে হবে। নড়াচড়া করলে কিছু বোঝা যাবে না। ওকে আমি পঁচিশ মিলিগ্রাম লিব্রিয়াম দিতে চাই।
ক্রিস শুধু ঢোক গিলল কয়েকবার। ওর গলা-বুক শুকিয়ে এসেছে।
ক্রিসকে ডাক্তার নিয়ে রেগানের ঘরে ঢুকলেন। হাতে সিরিঞ্জ। রেগান তাকাল রাগী চোখে। ফিসফিস করে বলল, এই ডাক্তার। এই কুত্তা। এই শুয়োরের বাচ্চা।
ক্রিস অসহায়ভাবে শুধু ছি ছি করে উঠতে পারল। ওর একদম স্বর ফুটছিল।
ইনজেকশন দিয়ে ডাক্তার চলে গেলেন। বলে গেলেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই আসবেন। নার্স ঘরে ই ই জি-র যন্ত্রপাতি আনতে শুরু করল। ডাক্তার যখন ফিরলেন তখনো লিব্রিয়ামের কোন প্রভাব পড়েনি রেগানের ওপর। বেশ অবাক হয়ে গেলেন তিনি।
পঁচিশ মিলিগ্রাম লিব্রিয়ামেও কিছু হয়নি!
আরো পঁচিশ মিলিগ্রাম দেয়া হল রেগানকে।
ডাক্তার ক্লীন ই ই জি-র পদ্ধতি ব্যাখ্যা করলেন, আমরা মস্তিষ্কের বা ও ডান দুদিকের তরঙ্গই মিলিয়ে দেখব–কোথাও কোন অসামঞ্জস্য আছে কি-না। কারণ এমন অসামঞ্জস্য থাকলেই দেখা যায় রোগী এমন অনেক কিছুই শোনে বা দেখে যার আসলে কোন অস্তিত্ব নেই।
পরীক্ষায় কিছুই পাওয়া গেল না। ডাঃ ক্লীন আরো অবাক হলেন। তরঙ্গগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণই আছে।
ডাঃ ক্লীন দীর্ঘ সময় নিঃশব্দে বসে রইলেন। ক্রিস জিজ্ঞেস করল, কি দেখলেন ডাক্তার?
ই ই জি-তে কিছু পাওয়া যায়নি। অবশ্য এ থেকে নিশ্চিত হয়ে কিছু বলাটা ঠিক হবে না। অনেক সময় …?
ওর অসুখটা তাহলে কি?
এটাকে কোন অসুখ বলা ঠিক হবে না।
তাহলে?
রেগানের আসলে এপিলেপি–মৃগীরোগ হয়েছে।
হায় ঈশ্বর। আপনি এসব কি বলছেন?
মিসেস ম্যাকনীল, অনেকের মত দেখছি আপনারও রোগটা সম্পর্কে খুব ভুল ধারণা আছে। এটা এমন কোন ভয়ংকর রোগ নয়। মূৰ্ছা যাওয়ার প্রবণতা সব মানুষের মধ্যেই আছে। আবার এর প্রতিরোধের ক্ষমতাও মানুষের জন্মসূত্রেই পাওয়া। কারো কারো ক্ষেত্রে প্রতিরোধ ক্ষমতাটি কম। এটা কোন অসুখ নয়।
চিকিৎসা নেই এর?
আছে, নিশ্চয়ই আছে। অনেক ধরনের এপিলেপ্সি আছে। ধরুন, আমার কথা শুনতে শুনতে মুহূর্তের জন্যে আপনি অন্য রকম হয়ে গেলেন। আমি কি বললাম তার কিছুই শুনতে পেলেন না। এটাও এক ধরনের এপিলেপি।
আগে তো রেগানের এসব ছিল না!
এখন হয়েছে, এটা হতে পারে অনেক কিছু থেকেই; চিন্তা, মানসিক আঘাত, ক্লান্তি, ভয় এসব থেকে এপিলেপ্সি শুরু হতে পারে। এরকম নজিরও আছে যে, কোন বিশেষ ধরনের শব্দ শুনেই রোগী মূছা গেছে।
