রাহেলা খুব স্মার্ট মেয়ে স্বাস্থ্যও ভালো, ভয় ডর কাউকে করে না। তার উপর বাবা চেয়ারম্যান। তাই একটু বেপরোয়া স্বাভাবের। ওড়নাটা ঝাঁপটা মেরে টান দিয়ে বলল ছাড়ন। এম.পি. সাহেবের ছেলের কাছ থেকে এরকম আশা করিনি। তারপর অন্য দু’জনকে উদ্দেশ্য করে বলল, আপনাদের ঘরে কী মা বোন নেই?
বন্ধুরা কিছু বলার আগে জুলহাস বলল, মা-বোন সবার ঘরেই থাকে। রাস্তার মেয়েরা তো মা বোন নয়। তারপর ধরা ওড়নাটা জোরে টান দিতে রাহেলা ছিটকে এসে জুলহাসের গায়ের উপর পড়ল। আর বই খাতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাস্তায় পড়ে গেল।
জুলহাস তাকে জড়িয়ে ধরে বন্ধুদেরকে বলল, চল কাশবনে নিয়ে গিয়ে প্রথমে ফুর্তি করব। তারপর এসিড ঢেলে মুখ পুড়িয়ে দেব। শালিকে বিয়ে করব বলে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম। শালীর বাপ প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে। তারপর তিনজনে মিলে রাহেলাকে কাশবনে নিয়ে যাবার জন্য চেষ্টা করতে লাগল।
.
শফি পরের দিন সকালে বন্ধু রবিউলের কাছে গিয়ে মাতব্বর দাদুর চাকরির প্রস্তাবের কথা জানিয়ে বলল, তুই কী বলিস?
।রবিউল খুশি হয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বলল, কোনো দ্বিমত
করে রাজি হয়ে যা। তারপর জিজ্ঞেস করল, তোর দাদিকে বলেছিস?
বলেছি।
উনি কী বললেন?
উনিও শুনে খুশি হয়ে বললেন, মাতব্বর খুব ভালো কথা বলেছেন। তুই ঢাকায় চাকরি করতে না গিয়ে এই চাকরি কর।
ঢাকায় চাকরি করার ইরাদা করেছিলি না কি?
না, করিনি। চাচা একদিন কি করব না করব জিজ্ঞেস করেছিলেন। ওনার মন বোঝার জন্য দাদির সামনে কথাটা বলেছিলাম। দাদি সেই কথাটা সত্য মনে করেছেন।
রবিউল বলল, দেরি না করে আজকেই মাতব্বরকে তোর মতামত জানিয়ে দে।
ঠিক আছে তাই দেব বলে শফি তার কাছে বিদায় নিয়ে মাতব্বরের কাছে গিয়ে সালাম ও কুশল বিনিময় করে মাদ্রাসায় চাকরি করার মত প্রকাশ করল।
মাতব্বর খুশি হয়ে শুকুর আলহামদুলিল্লাহ বলে বলেন, তোমার কাছ থেকে এটাই আশা করেছিলাম। আর দেরি করে কাজ নেই, কালকেই দরখাস্ত লিখে দিয়ে এস। আমি ভাইসপ্রিন্সিপালকে দেয়ার জন্য একটা চিঠি লিখে রাখব। যাওয়ার আগে আমার কাছ থেকে চিঠিটা নিয়ে যেও।
শফি জিজ্ঞেস করল, উনি কি খুব বয়স্ক লোক?
মাতব্বর বললেন, হ্যাঁ, উনি প্রায় বিশ বাইশ বছর ঐ পদে আছেন।
শফি বলল, আমি ছেলে মানুষ। তা ছাড়া প্রিন্সীপাল হওয়ার জন্য যে অভিজ্ঞতা দরকার, তা আমার নেই। তাই বলছিলাম ভাইস প্রিন্সিপালকে প্রিন্সিপাল পদে নিয়োগ করুন আর আমাকে ভাইস প্রিন্সিপাল পদে। উনি যখন রিটায়ার্ড করবেন তখন না হয় আমাকে প্রিন্সিপাল পদে নিয়োগ করবেন।
মাতব্বর সাহেব বললেন, কমিটির তরফ থেকে ওনাকে আমি কথাটা জানিয়েছিলাম। বললেন, আমার বয়স হয়েছে ঐ দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমি তোমাকেই প্রিন্সিপাল পদে নিয়োগ দিতে চাই। তবে উনি যেন তোমাকে প্রিন্সিপালের কাজ-কর্ম বুঝিয়ে দেন, সেই ভাবেই আমি চিঠি লিখে ওনাকে ব্যবস্থা করতে বলব।
আজ শফি বেলা এগারটার সময় মাদ্রাসায় গিয়ে ভাইস প্রিন্সিপালের সঙ্গে সালাম বিনিময় করে বলল, চরদৌলতখানের মাতব্বর সূরুজমিয়া আমাকে পাঠিয়েছেন।
ভাইস প্রিন্সিপালের বয়স পঁয়ষীর মতো। চুল দাড়ি সব পেকে সাদা। হয়ে গেছে। ইসলামের বিধি নিষেধ নিষ্ঠার সঙ্গে মেনে চলেন। শফির আপাদমস্তক একবার দেখে নিয়ে বসতে বলে বললেন, আপনি আসবেন মাতব্বর সাহেব কিছুক্ষণ আগে ফোন করে জানিয়েছেন। তারপর বললেন, কই, দরখাস্ত দিন।
শফি মাতব্বর দাদুর চিঠিসহ দরখাস্তটা ওনার হাতে দিল।
মাতব্বর ফোন করে ভাইস প্রিন্সিপালকে শুধু জানিয়েছে “একটা জিনিয়াস ছেলেকে আপনার কাছে পাঠাচ্ছি। কথাটা ঠিক বলেছি কিনা একটু পরীক্ষা করে দেখবেন।” তাই প্রথমে দরখাস্থের উপর একবার চোখ বুলিয়ে মাতব্বরের চিঠি পড়ে অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে শফির দিকে তাকিয়ে থেকে চিন্তা করলেন, যে ছেলের এতগুলো ডিগ্রী, তাকে আবার কী পরীক্ষা করবেন? বললেন, আপনি এখানে কাজ করতে চান জেনে খুব খুশি হয়েছি। সামনের শুক্রবার কমিটির মিটিং বসবে। আরও অনেক দরখাস্থ পেয়েছি। ঐদিন তাদেরকে আসার জন্য খবর দেয়া হয়েছে। আপনিও আসবেন। তারপর আপ্যায়ন করিয়ে বিদায় দিলেন।
ফেরার পথে শফি যখন বিলের কাছে এল তখন কাশবনের দিক থেকে মেয়েলী কণ্ঠ শুনতে পেল, “কে কোথায় আছ আমাকে এই পশুদের হাত থেকে বাঁচাও।” ব্যাপারটা বুঝতে পেরে খুব দ্রুত সেদিকে এগোল। একটু পরেই দেখতে পেল, চেয়ারম্যানের মেয়ে রাহেলাকে তিনটে ছেলে উলঙ্গ করার চেষ্টা করছে। রাহেলা প্রাণপণে ইজ্জৎ বাঁচাবার জন্য তাদের সাথে ধস্তাধস্তী করছে আর ঐ কথা বলে চিৎকার করছে।
শফি ছুটে এসে একজনের গর্দানে প্রচন্ড জোরে ক্যারাটের চাপ মারল।
ছেলেটা বাবারে বলে রাহেলাকে ছেড়ে দিয়ে ঘাড় ধরে লুঠিয়ে পড়ে জ্ঞান হারাল।
ততক্ষণে শফি আর একজনের তলপেটের নিচে অণ্ডকোষে প্রচন্ড জোরে লাথি মেরে তৃতীয়জনকে ধরে মাটিতে কয়েকটা আছাড় মেরে ছেড়ে দিল। যার অণ্ডকোষে লাথি মেরেছিল সে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে রইল। শফি জুলহাসকে কয়েকটা আছাড় মারার ফলে তার নাখ মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে নিথর হয়ে পড়ে রইল।
রাহেলার গায়ের কামিজের অধিকাংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। শফি ওদেরকে আক্রমণ করতে সুযোগ পেয়ে ওড়না গায়ে জড়িয়ে থরথর করে কাঁপতে লাগল আর তার চোখ থেকে পানি পড়তে লাগল। সেই অবস্থায়। শফিকে চিনতে পেরে অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তার কার্যকলাপ দেখছিল।
