৫০। কিন্তু যদি তারা তোমার কথা না শোনে ৩৩৮৩, তবে জেনে রাখ , তারা শুধু তাদের নিজ প্রবৃ্ত্তির অনুসরণ করে থাকে। আল্লাহ্র পথ-নির্দ্দেশ ত্যাগ করে যে তার নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে তার থেকে বেশী পথভ্রষ্ট আর কে আছে ? যারা পাপে আসক্ত আল্লাহ্ তাদের পথ দেখান না।
৩৩৮৩। কোরেশদের প্রতি আল্লাহ্ প্রতিদ্বন্দ্বিতা আহ্বান করেছেন যদি ক্ষমতা থাকে, তবে তারা কোরাণ বা তাওরাতের থেকে অধিক ভালো কিছু সৃষ্টি করুক। আল্লাহ্র প্রত্যাদেশে পাপ ও পূণ্যের পার্থক্য, পার্থিব জীবন পরিচালনার সঠিক নির্দ্দেশ যে ভাবে দান করা হয়েছে, যে নৈতিক মূল্যবোধ সর্বযুগের সর্বকালের জন্য জীবন পথের পথ নির্দ্দেশনা হিসেবে বিবেচিত , তা সৃষ্টি করা কোনও মানব বা সম্প্রদায়ের জন্য সম্ভব নয়। সুতারাং কোরেশরা যে তা পারবে না সেটাই তো স্বাভাবিক। তাদের প্রত্যাখান ও অভিযোগ ছিলো বিদ্বেষ প্রসূত। তারা তো প্রকৃত পক্ষে সত্যকে জানতে চায় নাই – তারা অনুসরণ করে তাদের বিকৃত কামনা,বাসনা ও স্বার্থপরতার মানসিকতা । অনুসরণ করে, তাদের ক্ষমতা , স্বেচ্ছাচারিতা, একচ্ছত্র আধিপত্য। গরীবকে শোষণ ও তাদের অন্যায়-অত্যাচার ইত্যাদি যাতে কোনওরূপ বাধাগ্রস্থ না হয় সেটাই হচ্ছে কোরাণের শিক্ষাকে প্রত্যাখান করার মূল কারণ। যাদের মন এরূপ স্বার্থপরতা, স্বেচ্ছাচারিতায় পরিপূর্ণ তারা কিভাবে আল্লাহ্র হেদায়েতের আলো পেতে পারে ?
আয়াতঃ 028.051
আমি তাদের কাছে উপর্যুপরি বাণী পৌছিয়েছি। যাতে তারা অনুধাবন করে।
And indeed now We have conveyed the Word (this Qur’ân in which is the news of everything to them), in order that they may remember (or receive admonition).
وَلَقَدْ وَصَّلْنَا لَهُمُ الْقَوْلَ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ
Walaqad wassalna lahumu alqawla laAAallahum yatathakkaroona
YUSUFALI: Now have We caused the Word to reach them themselves, in order that they may receive admonition.
PICKTHAL: And now verily We have caused the Word to reach them, that haply they may give heed.
SHAKIR: And certainly We have made the word to reach them so that they may be mindful.
KHALIFA: We have delivered the message to them, that they may take heed.
রুকু – ৬
৫১। আর আমি নিশ্চয়ই তাদের নিকট বারে বারে আমার বাণী পৌঁছে দিয়েছি, যেনো তারা উপদেশ গ্রহণ করে ৩৩৮৪।
৩৩৮৪। কোরাণ অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে কোরেশরা অভিযোগ করতো যে আল্লাহ্র বাণী তো হিব্রু ভাষাতে অবতীর্ণ হয়েছে, সুতারাং তাদের পক্ষে তা বোঝা সম্ভব নয়। কিন্তু কোরাণের আগমনে তাদের সে অভিযোগের কোনও ভিত্তি রইল না। এখন কোরাণ বা আল্লাহ্র প্রত্যাদেশ তাদের নিজ মাতৃভাষাতে , তাদের গৃহদ্বারে, তাদের নিজ জাতির লোক এবং নিজ পরিবারের লোকের কাছে অবতীর্ণ। সুতারাং কোরাণের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষাকে গ্রহণ করার কোন বাধা বা অভিযোগ থাকা উচিত নয়।
আয়াতঃ 028.052
কোরআনের পূর্বে আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তারা এতে বিশ্বাস করে।
Those to whom We gave the Scripture [i.e. the Taurât (Torah) and the Injeel (Gospel), etc.] before it, – they believe in it (the Qur’ân).
الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ مِن قَبْلِهِ هُم بِهِ يُؤْمِنُونَ
Allatheena ataynahumu alkitaba min qablihi hum bihi yu/minoona
YUSUFALI: Those to whom We sent the Book before this,- they do believe in this (revelation):
PICKTHAL: Those unto whom We gave the Scripture before it, they believe in it,
SHAKIR: (As to) those whom We gave the Book before it, they are believers in it.
KHALIFA: Those whom we blessed with the previous scriptures will believe in this.
৫২। এর পূর্বে যাদের আমি কিতাব প্রেরণ করেছিলাম , তারা এই [ প্রত্যাদেশ ] বিশ্বাস করে।
৫৩। এবং ইহা তাদের নিকট আবৃত্তি করা হয়, তারা বলে, ” আমরা ইহাতে বিশ্বাস স্থাপন করলাম , নিশ্চয়ই ইহা আমাদের প্রভুর প্রেরিত সত্য। আমরা তো ইহার পূর্বেও মুসলমান [আল্লাহ্র ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পনকারী ] ছিলাম।” ৩৩৮৫।
৩৩৮৫। কোরাণ যখন অবতীর্ণ হয়, কিছু সংখ্যক খৃষ্টান ও ইহুদী ছিলো যারা হযরত মুহম্মদের [সা ] প্রচারিত ইসলাম ধর্মকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলো। তারাঁ বুঝতে পেরেছিলো যে, ইসলাম ধর্ম এবং কোরাণের প্রত্যাদেশ হচ্ছে পূর্ববর্তী ঐশী প্রত্যাদেশ সমূহের যুক্তিসঙ্গত ধারাবাহিকতা। এটা কোনও নূতন ধর্ম নয়। সুতারাং তারা শুধু ইসলামকে অভিনন্দনই জানান নাই, তারা সানন্দে ইসলাম গ্রহণ করেন। এদের কথাই উপরের আয়াতে বলা হয়েছে , যারা বলেছিলেন , ” আমরা ইহাতে ঈমান আনি, ইহা আমাদিগের প্রতিপালক হইতে আগত সত্য। আমরা তো পূর্বেও আত্মসমর্পনকারী ছিলাম।” আত্মসমর্পনকারী অর্থাৎ ইসলামে বিশ্বাসী। ইহুদীদের মধ্যে আব্দুল্লাহ্ ইবনে সালাত [ রাঃ ] ও অন্যান্য এবং আবিসিনিয়ার কিছু খৃষ্টান ইসলাম গ্রহণ করেন। এদের সম্বন্ধেই এই আয়াতে বলা হয়েছে।
