৩৮। ফেরাউন বলেছিলো ,” হে পরিষদ বর্গ ! আমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য তোমাদের জন্য আছে বলে জানি না। ৩৩৭০। সুতরাং ওহে হামান! তুমি আমার জন্য (ভাটিতে) ইট পোড়াও এবং সুউচ্চ প্রাসাদ তৈরী কর, হয়তো আমি ইহাতে আরোহন করে মুসার উপাস্যের নিকট যেতে পারবো। কিন্তু আমার ধারণায় আমি মনে করি (মুসা) একজন মিথ্যাবাদী।” ৩৩৭১
৩৩৭০। ফেরাউন নিজেকে ঈশ্বর বলে ঘোষণা করেছিলো বহু ঈশ্বরের একজন নয় , একমাত্র ঈশ্বর বলে। দেখুন সূরা [ ৭৯ : ২৪ ] আয়াতে; ফেরাউন ঘোষণা করেছিলো ,”I am the Lord most High.” দম্ভ ও অহংকার তাকে এতটাই মোহাবিষ্ট এবং বিপথে চালিত করেছিলো যে, সে কিছুতেই বুঝতে পারছিলো না কেন লোকে তাকে ব্যতীত অন্য কারও এবাদত করবে।
৩৩৭১। মওলানা ইউসুফ আলী সাহেবের মতে ফেরাউনের এই বাক্যটি ছিলো বিদ্রূপাত্মক। হযরত মুসার আল্লাহকে ব্যঙ্গ করার জন্য সে এরূপ কথা উচ্চারণ করে। তবে অনেক তফসীরকার ফেরাউনের বাক্যটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন এবং কল্পনা করেন যে ফেরাউন সত্য সত্যই সুউচ্চ টাওয়ার তৈরী করতে চেয়েছিলো আকাশে পৌঁছানোর জন্য।
আয়াতঃ 028.039
ফেরাউন ও তার বাহিনী অন্যায়ভাবে পৃথিবীতে অহংকার করতে লাগল এবং তারা মনে করল যে, তারা আমার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে না।
And he and his hosts were arrogant in the land, without right, and they thought that they would never return to Us.
وَاسْتَكْبَرَ هُوَ وَجُنُودُهُ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ إِلَيْنَا لَا يُرْجَعُونَ
Waistakbara huwa wajunooduhu fee al-ardi bighayri alhaqqi wathannoo annahum ilayna la yurjaAAoona
YUSUFALI: And he was arrogant and insolent in the land, beyond reason,- He and his hosts: they thought that they would not have to return to Us!
PICKTHAL: And he and his hosts were haughty in the land without right, and deemed that they would never be brought back to Us.
SHAKIR: And he was unjustly proud in the land, he and his hosts, and they deemed that they would not be brought back to Us.
KHALIFA: Thus, he and his troops continued to commit arrogance on earth, without any right, and thought that they would not be returned to us.
৩৯। এবং পৃথিবীতে ফেরাউন ও তাঁর দল-বল ছিলো কোন কারণ ছাড়াই উদ্ধত এবং অন্যায়কারী। তারা মনে করতো যে তারা আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করবে না। ৩৩৭২
৩৩৭২। ” তারা আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করবে না।” – ফেরাউন ও তার বাহিনী পরলোকের জগত সম্বন্ধে কোনও বিশ্বাসই করতো না। তাদের অহংকার ও দম্ভ এই সহজ সত্যকে অনুধাবনে অক্ষম করে যে, প্রতিটি কাজেরই প্রতিফল আছে। ভালো কাজের পরিণাম ভালো এবং মন্দ কাজের পরিণাম মন্দ। এই ভালো ও মন্দ কাজের ফলাফল পরলোকে আমাদের আল্লাহ্র নিকট থেকে গ্রহণ করতে হবে। একমাত্র পরম করুণাময়ের করুণাতেই মন্দ পরিণাম থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
আয়াতঃ 028.040
অতঃপর আমি তাকে ও তার বাহিনীকে পাকড়াও করলাম, তৎপর আমি তাদেরকে সমুËেদ্র নিক্ষেপ করলাম। অতএব, দেখ জালেমদের পরিণাম কি হয়েছে।
So We seized him and his hosts, and We threw them all into the sea (and drowned them). So behold (O Muhammad SAW) what was the end of the Zâlimûn [wrong-doers, polytheists and those who disbelieved in the Oneness of their Lord (Allâh), or rejected the advice of His Messenger Mûsa (Moses) ].
فَأَخَذْنَاهُ وَجُنُودَهُ فَنَبَذْنَاهُمْ فِي الْيَمِّ فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الظَّالِمِينَ
Faakhathnahu wajunoodahu fanabathnahum fee alyammi faonthur kayfa kana AAaqibatu alththalimeena
YUSUFALI: So We seized him and his hosts, and We flung them into the sea: Now behold what was the end of those who did wrong!
PICKTHAL: Therefor We seized him and his hosts, and abandoned them unto the sea. Behold the nature of the consequence for evil-doers!
SHAKIR: So We caught hold of him and his hosts, then We cast them into the sea, and see how was the end of the unjust.
KHALIFA: Consequently, we punished him and his troops, by throwing them into the sea. Note the consequences for the transgressors.
৪০। সুতারাং আমি তাকে ও তার বাহিনীকে পাকড়াও করলাম এবং আমি তাদের সমুদ্রে নিক্ষেপ করলাম ৩৩৭৩। এখন দেখো ; যারা পাপ করে তাদের শেষ পরিণতি কি ঘটে।
৩৩৭৩। দেখুন সূরা [ ৭ : ১৩০ – ১৩৬ ] আয়াত যেখানে বর্ণনা করা হয়েছে ফেরাউনের বিভিন্ন ঘটনা এবং বলা হয়েছে শেষ পর্যন্ত তাকে সমুদ্রে ডুবিয়ে দেয়া হয়। এখানেও সমুদ্রে নিক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। ফেরাউন ও তার বাহিনী হচ্ছে সেই রকম লোক যারা শুধু ধবংস ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। ফলে নিজেরাও ধ্বংস হয়ে যায়। সুখ বা শান্তির জন্য তারা কোনও কিছু করতে অক্ষম কারণ তাদের আত্মার মাঝে বিরাজ করে প্রচন্ড দম্ভ ও অহংকার। এই দম্ভ ও অহংকারের ফলে তাদের আত্মায় জন্ম নেয় হিংসা, ঘৃণা , বিদ্বেষ ও আক্রোশ। আমাদের চারিপাশে যাদের চরিত্রে দম্ভ, অহংকার , হিংসা , দ্বেষ , আক্রোশে পরিপূর্ণ তারা নিজেরাও শান্তি পায় না , তাদের চারিপাশে যারা অবস্থান করে তাদেরও শান্তি হরণ করে নেয়।
