- বইয়ের নামঃ দূর পৃথিবীর ডাক
- লেখকের নামঃ আর্থার সি ক্লার্ক
- প্রকাশনাঃ সন্দেশ
- বিভাগসমূহঃ অনুবাদ বই, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
দূর পৃথিবীর ডাক
০১. থ্যালসা
দূর পৃথিবীর ডাক / সায়েন্স ফিকশন – আর্থার সি. ক্লার্ক / অনুবাদ: মিজানুর রহমান
প্রথম প্রকাশ : বইমেলা ফেব্রুয়ারী ২০০১
মহাকাশযান ম্যাগেলান–পুড়ে যাওয়া পৃথিবীর শেষ। উপহার তার সন্তানদের প্রতি। পঞ্চাশ আলোকবর্ষ দূরে সাগান-২ এহকে মানুষের নতুন পৃথিবী করার সংকল্প নিয়ে ছুটে চলেছে সে। যাত্রাপথে বিরতি হিসেবে যাত্রা বিরতী হল থ্যালসায়। ছোট্ট সে বিশ্বে। পুরনো পৃথিবীর মানুষ আবিষ্কার করল তাদেরই উত্তরসূরীদের। ভিন্ন দুই প্রেক্ষাপট থেকে আসা দুই সংস্কৃতির মানুষ কিভাবে পরস্পরকে আবিষ্কার করবে? তারা কি পরস্পরকে বুঝতে পারবে? ধ্বংস হওয়া
মা পৃথিবীর স্মৃতি, থ্যালসার বর্তমান সৌন্দর্য আর সাগান-২ এর কঠিন ভবিষ্যত কি একই সুতোয় বাঁধা থাকবে? নাকি পালতোলা সেই ক্যাপ্টেন কুকের ম্যাগেলানের মত ঝঞ্ঝা বিক্ষুদ্ধ ঘটনা পাড়ি দিতে হবে কোয়ান্টাম ড্রাইভের শক্তিসম্পন্ন মহাকাশযান ম্যাগেলানকে। পাঁচশ বছরের যাত্রায় সব কিছুই সম্ভব। পৃথিবীবাসী ও থ্যালসার অধিবাসীদের সম্পর্ক। নৃতাত্ত্বিক অভিঘাত, পুড়ে যাওয়া পৃথিবীর বিষণ্ণতা আর সব ছাপিয়ে ওঠা মানুষের জয়ের কাহিনী বলা হয়েছে এ-গ্রন্থে। এ-কাহিনী যত না আজকের তারচেয়ে বেশী আগামীর। হয়তো আগামীতে কোন। দূর গ্রহে বসে এই কাহিনী পড়ে কেউ বিস্মিত হবেন লেখকের প্রজ্ঞার কথা ভেবে। বিশ্বের সব সম্মানিত সায়েন্স ফিকশন পুরস্কার যে লেখকের করায়ত্ব।
অনুবাদকের উৎসর্গ : আব্বা-আম্মা-সোহাগ এবং সাদিয়া শবনম সোমা –আমার কাছের পৃথিবীর মানুষেরা
অনুবাদকের কথা
আর্থার সি ক্লার্ক বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক। তার সাহিত্য কর্মের ভেতর The Songs of Distant Earth একটি শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। এ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীটি একটি Hard Scince Fiction অর্থাৎ এটি নিছক কোন ফ্যান্টাসী নয়। বর্তমান বিজ্ঞানের আবিষ্কারের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে যা হতে পারে তার একটা সম্ভাব্য বিবরণ। কোয়ান্টাম ড্রাইভের ব্যাপারটিই কেবল এখানে কল্পিত। এছাড়া বাকী সবকিছুই বর্তমান বিজ্ঞানের স্বাভাবিক অগ্রগতিতেই আসার কথা। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী আর নিছক ফ্যান্টাসীর ভেতরের পার্থক্যটা এই উপন্যাসটি স্পষ্ট করে দেয়।
মহাকাব্যিক ঢঙে লেখা এ উপন্যাসটিতে বিজ্ঞান, নৃতত্ব, ভালোবাসা আর বিষাদ এক সঙ্গে মিলেমিশে এক অসাধারণ কাহিনীর জন্ম দিয়েছে যার সঙ্গে সম্ভবতঃ বাংলাভাষী পাঠকরা এর আগে খুব বেশি পরিচিত হয়নি।
মিজানুর রহমান (শাওন)
থ্যালসা
১. তারনার সৈকতে
বোটটা রীফে ঢোকার আগেই মিরিসা বুঝতে পরল যে ব্র্যান্ট রেগে আছে। হালের পেছনে তার রাগী দাঁড়ানো ভঙ্গি আর শেষ পথটুকু কুমারের বিশ্বস্ত হাতে ছেড়ে না দেয়াটাই প্রমাণ করে যে, কিছু একটা তাকে রাগিয়ে তুলেছে।
মিরিসা আস্তে আস্তে পাম গাছের ছায়া ছেড়ে বেরিয়ে এল। ঠান্ডা বালি যেন পা কামড়ে ধরছে। সে যখন সমুদ্রের কাছাকাছি পৌঁছালো, ততক্ষনে কুমার সবকিছু গুটিয়ে এনেছে। তার “বাচ্চা” ভাইটা (এখন অবশ্য তার সুঠাম পেশীবহুল দেহটা প্রায় মিরিসার সমানই হয়ে গেছে) ফুর্তিতে দৌড়ে এলো। কতবার মিরিসা আশা করেছে যে কুমারের এই সহজ ভালোমানুষী ভাবটা যদি ব্র্যান্টের থাকতো–কোন সমস্যাই যাকে আক্রান্ত করতে পারে না। ব্র্যান্ট অবশ্য বোট পাড়ে ভেড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করল না। কোমর পানিতেই লাফিয়ে নেমে, রাগের সঙ্গে আসতে লাগল। একটা ধাতব, বাঁকানো ফেসটুন জাতীয় জিনিস, তাতে আবার কিছু ছেঁড়া তার ঝুলছে–সেটাই মিরিসাকে দেখানোর জন্য তুলে দেখাল।
চেঁচালো, দেখ! তারা আবার এটা করেছে। আর খালি হাতটা দিয়ে একই সঙ্গে উত্তর দিকটা দেখালো, এবার আমি ছাড়ছি না। আর ঐ মেয়র তার যা খুশী করুক।
মিরিসা চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো। ওদিকে দুই কাঠামো বিশিষ্ট ছোট নৌকাটা, প্রাচীন কোন সামুদ্রিক প্রাণীর মতো বালিতে ঢেউয়ের তোড়ে আছড়ে পড়ল। বাইরের চাকাগুলোর সাহায্যে সেটা আস্তে আস্তে জলসীমার উপরে উঠতেই কুমার নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ করে, রাগে ফুঁসতে থাকা তার কাপ্তেন এর পাশে গিয়ে দাঁড়াল। সে বলল,
-আমি ব্র্যান্টকে বারবার বলেছি যে এটা দুর্ঘটনা। হয়তো একটা নোঙর ফেলা হয়েছিল। এছাড়া উত্তরের লোকজন ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কেন করবে?
–তারা করবে, কারণ তারা কোন প্রযুক্তি বের করার মতো কর্মঠ নয়, কারণ তারা ভয় পাচ্ছে যে আমরা অনেক বেশী মাছ ধরব। কারণ…
কুমারের সেঁতো হাসি চোখে পড়তেই সে থামল, আর জিনিসটা ছুঁড়ে মারল তার দিকে। কুমার অবশ্য সহজেই ধরে ফেলল।
-যাই হোক না কেন। যদি এটা দুর্ঘটনাও হয় তবুও তাদের ওখানে নোঙর ফেলা উচিত হয়নি। ওই জায়গাটা চার্টে পরিষ্কার ভাবে দাগিয়ে দেয়া আছে। “গবেষণাক্ষেত্র –দূরে থাকুন।” আমি একটা প্রতিবাদ পাঠাতে যাচ্ছি।
ব্র্যান্ট অবশ্য এতোক্ষণে তার স্বাভাবিকতা ফিরে পেয়েছে। তার সবচাইতে কড়া রাগটাও কয়েক মিনিটের বেশী থাকে না। তাকে ঠিক রাখতে মিরিসা তার পিঠের ওপরে আঙ্গুল ছোঁয়াতে ছোঁয়াতে সবচাইতে শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করল,