- বইয়ের নামঃ হিমগিরিতে সাবধান!
- লেখকের নামঃ রকিব হাসান
- সিরিজঃ তিন গোয়েন্দা সিরিজ
- প্রকাশনাঃ সেবা প্রকাশনী
- বিভাগসমূহঃ গোয়েন্দা কাহিনী, রোমাঞ্চকর গল্প
হিমগিরিতে সাবধান!
এক
রাশেদ চাচার সঙ্গে স্নোশু মাউন্টেন স্কি লজে এসেছে তিন গোয়েন্দা। তিন দিনের ছুটি কাটাতে। স্নোশু লজ স্কি স্কুলে স্কিইং শিখবে ওরা। স্কুলটিতে সবাই ক্লাস করতে পারে, শিক্ষানবীশ থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় প্রত্যেকে।
আমার এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না আমরা সত্যি সত্যি এখানে রয়েছি, বলল কিশোর। আইসক্রিমের উপর বাদাম কুচি ছড়িয়ে দিল। কাঠের প্যানেল ঘেরা বিশাল ডাইনিং রূমটার চারধারে দৃষ্টি বুলাল ও।
আশপাশে সবাই যার যার আইসক্রিম নিয়ে ব্যস্ত। জানালার বাইরে হালকা তুষারপাত হচ্ছে। স্নোশু পাহাড়ের উঁচু চূড়ার পিছনে ধীরে ধীরে অস্ত যাচ্ছে সূর্য।
স্কি করতে দারুণ লাগে আমার, বলল কিশোর।
আমারও, সায় জানাল রবিন।
আরেকটু শেখা হয়ে গেলে দেখবে আরও ভাল লাগছে, বলল মুসা। তিনজনের মধ্যে ওর অভিজ্ঞতাই সবচেয়ে বেশি।
ছেলেরা জনাকীর্ণ কামরাটার ওপাশে, রাশেদ চাচার টেবিলের কাছে এসে দাঁড়াল। চাচা কফি পান করছেন।
এখানকার সবাই কি স্কি স্কুলে এসেছে নাকি? বন্ধুদের নিয়ে বসবার ফাঁকে জিজ্ঞেস করল কিশোর।
না এলেই বাঁচি, বলল মুসা। আমি এনজয় করতে চাই, লোক বেশি হয়ে গেলে সব মাটি হবে।
চিন্তার কিছু নেই, মুসা, মৃদু হেসে বললেন চাচা। আমি শিয়োর, তুমি সাধ মিটিয়ে স্কি করতে পারবে।
হ্যাঁ, যোগ করল রবিন। তোমার লাকি লকেটটা আছে না?
মুসা তার হট ফাজ আইসক্রিমের খানিকটা চামচে তুলে নিয়ে মাথা ঝাঁকাল।
মুসার ওই লকেটটার কথা বলছ? আঙুল দেখিয়ে প্রশ্ন করল কিশোর।
আইসক্রিমটুকু গিলে নিল মুসা। তারপর খুদে রুপোলী স্কি দুটো স্পর্শ করল। ভেলভেটের রিবন দিয়ে গলার সঙ্গে ঝুলছে।
এটা আমার লাকি লকেট। জিনিসটা দারুণ দেখতে, তারিফ করল কিশোর।
ঘরের এক মাথায় ছোট্ট এক মঞ্চ। সেদিকে ছেলেদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন রাশেদ চাচা।
ওরা কী যেন ঘোষণা দিতে যাচ্ছে, বললেন।
ছেলেরা ঘুরে বসল। খাটো মত, কোঁকড়াচুলো এক ভদ্রলোককে মঞ্চে উঠে মাইক্রোফোনের সামনে এসে দাঁড়াতে দেখল। উপস্থিত সবার মনোযোগ কামনা করলেন তিনি।
তিন গোয়েন্দা কথা বন্ধ করল। কিন্তু পাশের টেবিলের ছেলে দুটো লোকটার কথায় কর্ণপাত করল না। হো-হো করে হাসাহাসি করছে। এক চামচ আইসক্রিম চামচে তুলে নিয়ে একজন ছুঁড়ে মারল আরেকজনের উদ্দেশে।
দ্বিতীয় ছেলেটি ঝট করে সরে গেল। আইসক্রিম উড়ে আসছে সোজা রবিনকে লক্ষ্য করে।
রবিন দেখতে পেয়ে মাথা নামাল। ফলে, ওর পিছনে মেঝেতে গিয়ে পড়ল। আইসক্রিমটুকু।
অ্যাই, কী করছ তোমরা? চেঁচিয়ে উঠল রবিন। আরেকটু হলেই তো আমার সোয়েটারটা নষ্ট হত।
ছেলে দুটি একদৃষ্টে ওর দিকে চেয়ে রয়েছে। অবিকল একই রকম দেখতে। যমজ। বয়সে তিন গোয়েন্দার চাইতে খানিকটা ছোট।
প্রথমজন আরেক চামচ আইসক্রিম তুলে নিয়ে রবিনের দিকে লক্ষ্যস্থির করল।
অ্যাই, সাবধান, গর্জন ছাড়ল মুসা।
রাশেদ চাচা এবার এদিকে মনোযোগ দিতে বাধ্য হলেন। ছেলে দুটির দিকে চেয়ে মাথা নাড়লেন তিনি।
তার নিষেধ অমান্য করবার সাহস পেল না ওরা। ভাল মানুষের মত ঘুরে। বসে মঞ্চের দিকে মন দিল।
স্নোশু মাউন্টেনে সবাইকে স্বাগতম, মঞ্চে দাঁড়ানো ভদ্রলোক বললেন। আমি টনি গ্রেগ, স্কি স্কুলের ডিরেক্টর। এখানে যারা উপস্থিত তাঁদের মধ্যে কতজন আমাদের স্কি স্কুলে এসেছেন, বলবেন কি?
অনেক লোক হাত তুলল। তাদের মধ্যে কিশোর আর রবিনও রয়েছে। মুসা মুখে দুআঙুল পুরে শিস দিয়ে উঠল।
মৃদু হাসলেন টনি গ্রেগ।
কথা দিতে পারি, সময়টা আপনারা উপভোগ করবেন এবং অনেক কিছু শিখতেও পারবেন। আমি এখন আপনাদের সঙ্গে আমাদের ইন্ট্রাকটরদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি।
ইন্ট্রাকটরদের পরনে কালো স্কি প্যান্ট ও উজ্জ্বল লাল জ্যাকেট।
লোকগুলোকে এই ড্রেসে হেভী মানিয়েছে তো, অস্ফুটে প্রশংসা করল। রবিন।
আপনাদের খাওয়া হয়ে গেলে লজের যেখানে খুশি স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে পারেন-কোন বাধা নেই। হলের ওপাশে গেম রূম রয়েছে, আর লাউঞ্জে আছে ফায়ারপ্লেস, ছুটিটা সবার আনন্দে কাটুক এই কামনা করে বিদায় নিচ্ছি!
চলো, গেম রূমটা দেখে আসি, বন্ধুদের উদ্দেশে বলল কিশোর। রাশেদ চাচা একটু পরে যোগ দেবেন ওদের সঙ্গে।
তিন গোয়েন্দা ঝটপট আইসক্রিম খেয়ে শেষ করল। তারপর যার যার জ্যাকেট তুলে নিয়ে হাঁটা দিল গেম রূমের উদ্দেশে। রবিন ওর গোলাপী স্কি হ্যাটটা পুরেছে জ্যাকেটের পকেটে।
ওখানে মনে হয় স্কিইং ভিডিও দেখাচ্ছে, জানালার পাশে প্রকাণ্ড টেলিভিশনটা ইশারায় দেখাল মুসা।
এদের কাছে হয়তো স্টার কোয়েস্টও আছে, দেয়ালে ভিডিওর সারি লক্ষ করে বলল কিশোর। ওর প্রিয় এক ছায়াছবির উপর ভিত্তি করে তৈরি ওই গেমটা। চলো তো দেখি।
ছেলেরা গেমগুলোর দিকে এগোচ্ছে, পিছনে ছুটন্ত পদশব্দ শোনা গেল। পরমুহূর্তে কে যেন খুব জোরে ধাক্কা দিল রবিনকে।
হুমড়ি খেয়ে আরেকটু হলেই একটা টেবিলের উপর পড়ে যাচ্ছিল রবিন। কিশোর শেষ মুহূর্তে ওর বাহু চেপে ধরাতে বেঁচে গেল।