- বইয়ের নামঃ বনের ডায়েরি
- লেখকের নামঃ শামসুদ্দীন নওয়াব
- সিরিজঃ তিন গোয়েন্দা সিরিজ
- প্রকাশনাঃ সেবা প্রকাশনী
- বিভাগসমূহঃ রহস্যময় গল্প, গোয়েন্দা কাহিনী, রোমাঞ্চকর গল্প, অ্যাডভেঞ্চার
বনের ডায়েরি
এক
গরমের এক দিনে পেনসিলভেনিয়ার ফ্রগ ক্রীকে রহস্যময় এক ট্ৰীহাউস উদয় হয়।
তিন গোয়েন্দা বেড়াতে গিয়েছিল হিরু চাচার বাসায়। ওরা ট্রীহাউসটা আবিষ্কার করে। ওখানে উঠে দেখে ওটা বই দিয়ে ঠাসা।
ওরা শীঘ্রি টের পায় ট্রহাউসটা জাদুর। বইয়ে উল্লেখিত বিভিন্ন জায়গায় ওদেরকে নিয়ে যেতে পারে। ওদের শুধু একটা ছবি নির্দেশ করে সেখানে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতে হয়। ব্যস, পৌঁছে যায়। সেখানে।
ঘটনাক্রমে ওরা জানতে পারে ট্রীহাউসটা মরগ্যান লে ফে-র। সে রাজা আর্থারের সময়কার এক জাদুকরী লাইব্রেরিয়ান। টাইম আর স্পেসে ভ্রমণ করে বই জোগাড় করা তার কাজ। তারপর…
লাইব্রেরি থেকে ফ্রগ ক্রীক উডসের পাশ দিয়ে ফিরছিল তিন বন্ধু। বাঘা এবার ওদের সঙ্গে এসেছে। সে ছুটছে আগে আগে।
বাঘা! ডাক ছাড়ল কিশোর।
হুফ! হুফ! গর্জাল বাঘা। দৌড়ে জঙ্গলে ঢুকে পড়ল।
চলো, ভিতরে যাই, প্রস্তাব করল মুসা।
তিন বন্ধু ছুটল বাঘার পিছু পিছু। শেষ বিকেলের আলোয় আলোকিত বনভূমি।
দড়ির এক মইয়ের কাছে থেমে দাঁড়িয়েছে বাঘা। সবচাইতে উঁচু এক ওক গাছ থেকে নেমেছে ওটা। পৌঁছেছে ম্যাজিক ট্রহাউসে।
তিন বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করল বাঘা। হাফাচ্ছে। লেজ নাড়ছে।
ওকে কোলে তুলে নিল রবিন। তারপর চালান করে দিল কিশোরের ব্যাকপ্যাকে।
মুসা মইটা ধরে বাইতে শুরু করল। ট্রীহাউসে উঠে এল ওরা।
এবার আমরা কোথায় যাব? প্রশ্ন করল মুসা।
চারধারে নজর বুলিয়ে নিল কিশোর। মরগ্যান ওদের জন্য সবসময় একটা রিসার্চ বই রেখে যায়।
হুফ! হুফ! কোনায় পড়ে থাকা এক বইতে থাবা মারল বাঘা। কিশোর ওটা তুলে নিয়ে জোরে জোরে নামটা পড়ল: ওয়াইল্ড লাইফ অভ ইণ্ডিয়া।
খাইছে, ইণ্ডিয়া, বলে উঠল মুসা। সে তো বহুদূর।
হ্যাঁ, বাংলাদেশের পাশে, বলল কিশোর।
তবে আর দেরি কীসের? চলো রওনা হয়ে যাই, বলল নথি।
বইটার প্রচ্ছদে তর্জনী রাখল কিশোর।
আমরা ওখানে যেতে চাই, বলল।
বাতাস বইতে শুরু করল। ঘুরতে লাগল ট্রহাউসটা। বন-বন করে ঘুরছে। এবার সব কিছু নিথর। একেবারে স্থির। কিন্তু মাত্র এক মুহূর্তের জন্য…
দুই
কোলাহলে ভরে রয়েছে উষ্ণ বাতাস।
কাহ-কো!
ইইই-ইইই!
আক-অলক!
কী হচ্ছে এখানে? প্রশ্ন করল কিশোর।
জানালা দিয়ে বাইরে চাইল তিন বন্ধু। কমলা আভা ছড়িয়ে ডুবে গেছে সূর্য। জঙ্গলের কিনারে, নদীর ধারে এক গাছে এখন ট্ৰীহাউস। বনভূমির উঁচু গাছ-পালা থেকে নানা ধরনের শব্দ আসছে। ঠিক এসময় দুটো প্রাণী লাফিয়ে পড়ল জানালার ধারিতে।
খাইছে! চেঁচিয়ে উঠে, লাফিয়ে পিছু হটল মুসা।
হেসে ফেলল রবিন।
হুফ! হুফ! ডাক ছাড়ল বাঘা।
দুটো খুদে বানর উঁকি মেরে ওদেরকে দেখছে। কালো মুখে হালকা ধূসর পশম। দেখে মনে হলো খুদে পার্কা পরে রয়েছে।
হাই, বলল রবিন। আমি রবিন। ও কিশোর। ও মুসা। আর ও বাঘা। তোমাদের নাম কী?
কাহ-কো, কাহ-কো, বানর দুটো কিচিরমিচির করে বলল।
ভাল, বলল রবিন। বন্ধুদের দিকে চাইল। এদের নাম রানী আর টিটো রাখলে কেমন হয়?
ফাইন, বলল মুসা।
এরা মনে হয় ভাই-বোন, বলল রবিন।
রানী আর টিটো হু-হুঁপ শব্দ করল। মনে হলো রবিনের কৌতুক শুনে হাসছে। ওদের হলদে চোখ চিকমিক করছে।
বানর দুটো এবার গাছ থেকে নেমে যেতে লাগল। লম্বা লেজ আর বাহু ব্যবহার করে ডাল থেকে ডালে স্বচ্ছন্দে দোল খেয়ে চলে যাচ্ছে ওরা। মাটিতে লাফিয়ে পড়ে মুখ তুলে চাইল।
আসছি! বাঘাকে নিয়ে এসো, কিশোর, বলল রবিন। তারপর মই বেয়ে নামতে শুরু করল।
কিশোর চটপট ওয়াইল্ড লাইফ অভ ইণ্ডিয়া বইটার পাতা উল্টাল। ধূসর বানরদের একটা ছবি খুঁজে পেল ও। পড়ল:
এই জাতের বানরদের নাম লাঙ্গুর। এর অর্থ যার লম্বা লেজ আছে।
রবিনের হাসির শব্দ শোনা গেল নীচ থেকে। বনভূমির কল কাকলীর সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে ওর হাসির শব্দ।
হুফ! হুফ! ডাকল বাঘা।
ওকে, ওকে, বলল কিশোর।
বই আর বাঘাকে প্যাকে রাখল ও। এবার মই বেয়ে তরতর করে। নামতে লাগল। ওকে অনুসরণ করল মুসা।
নদী তীরে বানর দুটোর সঙ্গে খেলা করছিল রবিন।
কিশোর মাটিতে নামিয়ে দিল বাঘাকে।
রানী লাফিয়ে এগিয়ে এসে কিশোরের হাত ধরল। লাঙ্গুরটার থাবাটা অনেকটা মানুষের বাচ্চার হাতের মত।
রানী বনভূমির দিকে টানল কিশোরকে। আর টিটো টানল রবিনকে। ওদের পিছু পিছু ছুটল বাঘা। তার পিছনে মুসা পা বাড়াল।
লাঙ্গুর দুটো উঁচু, পাতাবহুল গাছে অনায়াসে উঠে পড়ছে। এবার ডাল থেকে ডালে দোল খেতে লাগল জাঙ্গল জিমের বাচ্চাদের মতন।
রবিন দৌড় দিল ঝুলন্ত বানর দুটোর নীচ দিয়ে। ওর পিছন পিছন ছুট দিল বাঘা।
দাঁড়াও! দাঁড়াও! ডাকল মুসা। ও আর কিশোর তড়িঘড়ি ওদের অনুসরণ করল। রবিন, আস্তে! আমরা এখানকার কিছুই চিনি না।
মুসার কথা বুঝেই যেন লাঙ্গুর দুটো শ্লথ হয়ে গেল। রবিনের নাগাল ধরল কিশোর আর মুসা। জঙ্গল ভেদ করে হাঁটতে লাগল ওরা।
অদ্ভুত জায়গা, বলল কিশোর।
সায় জানাল রবিন।
অস্তরাগের আগুন লেগেছে যেন বনের গাছ-গাছালিতে।